যে বস্তু বেশি পরিমাণ খেলে নেশা হয় তার সামান্য পরিমাণ খাওয়াও হারাম।

যে বস্তু বেশি পরিমাণ খেলে নেশা হয় তার সামান্য পরিমাণ খাওয়াও হারাম।

আমরা মুসলিম। এদেশের বেশিরভাগ মানুষ মুসলমান। খানা-খাদ্য ও জীবন যাপনে আমরা ইসলাম নির্দেশিত হালাল-হারামে বিশ্বাস রাখি এবং মানি। ইসলামের দৃষ্টিতে যে কোনো প্রকারের মাদক হারাম। কম হোক, বেশি হোক সবটুকুই হারাম। কুরআনে কারীমের বিভিন্ন জায়গায় মদ হারামের কথা বর্ণিত হয়েছে।
.
এক জায়গায় মদ সম্পর্কে এরশাদ হয়েছে …

رِجْسٌ مِّنْ عَمَلِ الشَّیْطٰنِ

শয়তানের গান্ধা কর্ম’ -সূরা মায়েদা ৫ : ৯০)।
.
এছাড়া বহু হাদীসেও মদের ব্যাপারে কঠোর নিষেধাজ্ঞা এসেছে। হাদীস শরীফে একবার মদপানকারীদের শাস্তি দেওয়ার ক্ষেত্রে বেত্রাঘাত ও জুতাপেটা কিছুই বাদ না যাওয়ার একটি বর্ণনাও রয়েছে।
.
আমাদের ভুলে গেলে চলবে না যে, হাদীসে মদকে সকল অশ্লীলতার মূল আখ্যা দেয়া হয়েছে।
.
রাসূলে কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর প্রিয় সাহাবী হযরত মুআয রা.-কে যে বিশেষ দশটি অসিয়ত করেছিলেন তার মধ্যে একটি ছিল ولا تشربن خمرا فإنه رأس كل فاحشة অর্থাৎ কখনো কোনো প্রকারের মদ পান করবে না। কারণ এটি সকল অশ্লীলতার মূল।
.
প্রসঙ্গক্রমে একটি বিষয়ে দৃষ্টিপাত করতে চাই। তা হচ্ছে ‘এনার্জিড্রিংক’। বাজারে এখন এজাতীয় পানীয়ের সয়লাব। কয়েকটি কোম্পানী ব্যাপক বিজ্ঞাপন ও প্রচারণার মাধ্যমে শিশু, তরুণ ও যুবকদের এসবের প্রতি আসক্ত করে তুলছে।
.
অথচ অভিজ্ঞ মহল অনেক আগে থেকেই বলে আসছেন এগুলোতে এ্যালকোহল রয়েছে। কয়েকবার খবরের কাগজ এ বিষয়ক বিস্তারিত প্রতিবেদনও ছেপেছে। কিন্তু তাতে এসব প্রস্তুতকারী বা নিয়ন্ত্রণকারী কর্তৃপক্ষ কারোরই টনক নরছে বলে মনে হয় না।
.
সরকারও মাদক বিষয়ক কিছুটা কঠোর আইন করেছে কিন্তু তারপরেও সরকারী আইনে শরীয়ার সাথে সংঘর্ষ রয়েছে। কারণ, আইন করা হয়েছে যে, খাদ্যদ্রব্য ও পানীয়তে ০.৫% এ্যালকোহল দেয়া যাবে। অথচ ইসলাম বলছে এক ফোটা মাদকও খাদ্যে মেশানো যাবে না।
.
.
নবী কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম স্পষ্ট বলেছেন : ما أسكر كثيره فقليله حرام যে বস্তু বেশি পরিমাণ খেলে নেশা হয় তার সামান্য পরিমাণ খাওয়াও হারাম।
.
জামে তিরমিযী,হাদীস ১৮৬৫;সুনানে ইবনে মাজাহ,হাদীস ৩৩৯৩;সুনানে আবু দাউদ, হাদীস ৩৬৮১

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here